রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর বাইরে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে কি না—এটি নির্বাচন কমিশনের নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের যৌথ প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ইসি সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কারিগরি ও আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের দায়িত্ব স্পষ্ট। কিন্তু কোনো সংসদ সদস্য দলীয় প্রার্থীর বাইরে গিয়ে ভোট দেবেন কি না, কিংবা সে ক্ষেত্রে দলীয় বিধান কীভাবে প্রয়োগ হবে—এসব বিষয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের আওতাভুক্ত।রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর ভোটগ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতিও বৈঠকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটের সময় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে অবস্থান করবেন। নির্বাচন কমিশনের সহায়ক কর্মকর্তারা তাঁদের কাছে সরাসরি ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে সংসদ কক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হবে।সাংবাদিকেরা জানতে চান, বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীসহ কোনো দল পৃথক প্রার্থী দিলে এবং কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের প্রার্থীর পরিবর্তে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিলে সেই ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য হবে কি না এবং এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে কি না।
জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, ক্রস ভোটিং বা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার অংশ। নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো নির্ধারিত আইন ও নিয়ম অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা।সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। তবে এর কারণে তিনি পরবর্তী কোনো সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন না।













