উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন।
জাতীয় গ্রিডের হাই-ভোল্টেজ টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা থেকে দিন-রাত বালু তোলা হলেও প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে যমুনা নদীর ৭ ও ৮ নম্বর জাতীয় গ্রিড টাওয়ার সংলগ্ন আলোকদিয়া চর এলাকায় গিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের এমন কর্মযজ্ঞ দেখা যায়। নদীতে সারিবদ্ধভাবে বসানো অন্তত ৯টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে ক্রমাগত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শতাধিক বাল্কহেডে বালু লোড-আনলোড ও পরিবহনের ধুম পড়েছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী চক্রের যোগসাজশে হাইকোর্টের নির্দেশনা তোয়াক্কা না করেই এ অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার পরোক্ষ মদদ ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই চক্রটি এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো ও হাই-ভোল্টেজ বিদ্যুৎ টাওয়ারের কাছে নদী থেকে এভাবে বেপরোয়া গতিতে বালু তোলায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন এবং চর এলাকায় তীব্র ভাঙনের আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে ফরিদপুর রেঞ্জ নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামের সরকারি মোবাইল নম্বরে টানা তিন দিন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে নৌ পুলিশের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
উচ্চ আদালতের স্পষ্ট আদেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে প্রকাশ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন চলছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সচেতন মহল। আলোকদিয়া চর এলাকা ও জাতীয় গ্রিড রক্ষায় অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।












