দীর্ঘ ১৬৬ দিন বা প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস নেতৃত্বশূন্য থাকার পর পুনর্গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নতুন কার্যক্রম শুরু করেছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত মান্যবর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই নতুন কমিশন পথচলা শুরু করল। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান এবং তার সহকর্মী দুই নতুন কমিশনার—সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া ও জাহাঙ্গীর আলম খান সেগুনবাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত হন। কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর সকাল ১০টায় তারা দুদকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় দুদক সচিব সাইদুর রহমান, সংস্থার মহাপরিচালকবৃন্দ এবং বিভিন্ন উপপরিচালক পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নতুন কমিশনকে স্বাগত জানান।
উল্লেখ্য, বিগত সরকারের পতনের পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতে দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং অন্য দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার General হাফিজ আহসান ফরিদ গত ৩ মার্চ একযোগে পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সংস্থাটির শীর্ষ পদগুলো সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। অবশেষে গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয় যে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ৬(১) ধারা অনুযায়ী প্রথমে এই তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে একই আইনের ৫(১) ধারার ক্ষমতাবলে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে তাদের মধ্য থেকে কমিশনের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত করা হয়। আইনানুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর তারা এই পদে বহাল থাকবেন।
নতুন চেয়ারম্যানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত পরিচয় অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ কে এম আসাদুজ্জামান ছিলেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন প্রখ্যাত বিচারপতি, যিনি ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বাভাবিক অবসরে যান। শিক্ষা জীবনে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান থেকে আইন বিষয়ে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করার মাধ্যমে তার আইন পেশার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে দীর্ঘ সময় সুনামের সঙ্গে কাজ করেন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দেন এবং ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে তার দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তাকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ পড়ানো হয়েছিল।














