পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নসংলগ্ন পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে সরকারের অনুমোদন ও নির্ধারিত শর্ত তোয়াক্কা না করে দিন-রাতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন তোলা এসব বালু বিপুলসংখ্যক বাল্কহেডে পরিবহন করা হলেও কার্যকর ও টেকসই প্রতিরোধের অভাব থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে।
গত ২, ৩ ও ৪ অক্টোবর (২০২৬) সরেজমিনে চরতারাপুর, কলাবাগান, নিউচর পূর্বপাড়া ও বেলতলাসহ পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে একাধিক শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু তুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, জোতকাকুরিয়া-কলাবাগান চর নদীপথ, গোহাইলবাড়ী, ভাদুরিয়াডাঙ্গী, নিউচর পূর্বপাড়া, চর ভবানীপুর, বেলতলা ও চরতারাপুর সীমান্তবর্তী নদী সীমানায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র এই বালু উত্তোলনের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বালু উত্তোলনকেন্দ্রিক তৎপরতায় এবং নদীপথে আধিপত্য বজায় রাখতে স্পিডবোটে সশস্ত্র ব্যক্তিদের মহড়াও লক্ষ্য করা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কোনো অভিযান পরিচালনার তথ্য আগেই চোর চক্রের কাছে পৌঁছে যায়, যার ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পৌঁছানোর আগেই ড্রেজার ও বালুবাহী নৌযান সরিয়ে ফেলে অভিযুক্তরা। এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের নিম্নপর্যায়ের কিছু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে নদী থেকে অনবরত বালু তোলা হচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি কাটার ফলে পদ্মার তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বর্ষা শেষে ও শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে নদীভাঙনের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বসতভিটা ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে এসব অবৈধ ড্রেজার জব্দ, বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িত প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহা জানান, “ইতোমধ্যে পদ্মার এসব পয়েন্টে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং এলাকাটি কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। তবে দুর্গম চরাঞ্চল ও নদীপথ হওয়ায় অভিযান পরিচালনা ও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে কিছুটা বেগ পেতে হয়।” তা সত্ত্বেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

















