সর্বশেষ

শিবালয়ে যমুনা নদীতে দেদারসে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন:রয়েছে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

জেলা প্রতিনিধি

মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি বালুমাফিয়া চক্র প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন নদী থেকে বালু তুলে যাচ্ছে। এতে তীব্র হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় জনবসতি, ফসলি জমি এবং জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো।

​রবিবার (৪ অক্টোবর ২০২৬) সরেজমিনে আলোকদিয়া চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় একাধিক ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বর্তমানে প্রায় ৬ থেকে ৭টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে যমুনা নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে। সেই বালু পরিবহনের জন্য নদীর পাড়ে বিপুলসংখ্যক বাল্কহেড নোঙর করে লোড-আনলোডের কাজ চালানো হচ্ছে প্রকাশ্যে।

​এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে,নদীভাঙন থেকে ঘরবাড়ি, বসতভিটা, কৃষিজমি এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ টাওয়ার রক্ষায় আলোকদিয়া চর থেকে সব ধরনের বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনার তোয়াক্কাই করছে না বালুখেকো চক্রটি। নিষেধাজ্ঞার পরও কীভাবে প্রকাশ্যে ড্রেজার চালিয়ে নদী ধ্বংসের এই কারবার চলছে—তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভাঙনকবলিত দুর্গত মানুষেরা।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত সাংবাদিক মাসুদ রানা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন:দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা

​স্থানীয় অধিবাসীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর অভিযান না থাকায় বালু উত্তোলনকারীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অবৈধভাবে নদীর তলদেশ কাটার ফলে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। দ্রুত এটি বন্ধ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে আশপাশের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

​হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশনা থাকার পরও একটি চক্র কীভাবে প্রকাশ্যে নদী থেকে বালু তোলার সাহস পায়—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীভাঙন ও বিদ্যুৎ বিপর্যয় থেকে এলাকাকে বাঁচাতে অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, ব্যবহৃত ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চলবাসী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
০৪ অক্টোবর ২০২৬
Trulli

শিবালয়ে যমুনা নদীতে দেদারসে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন:রয়েছে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা