বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান ও ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি কোনো ধরনের বাধা বা জটিলতা নেই বলে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (১৯ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় তিনি রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনি অবস্থানের কথা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যক্ত করেন।
এদিকে সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল স্থগিত রাখার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ যে রিট আবেদন করেছিলেন, তা হাইকোর্ট বেঞ্চ খারিজ করে দিয়েছেন। হাইকোর্টের আদেশের পর তিনি এবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রিটটি সরাসরি খারিজের আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে রিটের বিরোধিতা করে দীর্ঘ আইনি যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব, অন্যদিকে রিটকারীর পক্ষে ইউনুছ আলী আকন্দ নিজেই শুনানি করেন।
সংবিধানের আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদের মূল বক্তব্য হলো—যেকোনো সাধারণ বা বিশেষ নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত ও নির্বাচিত হয়ে কোনো ব্যক্তি যদি সংসদে প্রবেশ করেন, তবে তিনি যদি পরবর্তীতে ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে তার দলের গৃহীত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট প্রদান করেন, তবে সংসদে তার সদস্যপদ বা আসন তৎক্ষণাৎ শূন্য বলে গণ্য হবে। তবে এই পদ বাতিলের কারণে তিনি পরবর্তী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য হবেন না। এই অনুচ্ছেদটির কারণেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে ব্যাপক আইনি আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল, যা এখন আদালতের আদেশে পরিষ্কার হয়ে গেছে।
















