ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ধউর-আশুলিয়া রুটের দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল নির্মাণকাজ চলাকালে সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যেই বিকল্প হিসেবে সার্ভিস সেতু দুটি নির্মাণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনের পর থেকেই সেতু দুটি দিয়ে যানবাহন চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীরাও এসব সেতু ব্যবহার করতে পারবেন। যাত্রী ও সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ করতে সেতু দুটিকে টোলমুক্ত রাখা হয়েছে।
তবে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে সেতু দুটিতে যানবাহনের উচ্চতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে বেশি উঁচু কোনো যানবাহন সেতু দুটির ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন সার্ভিস সেতু চালু হওয়ায় উত্তরা থেকে আশুলিয়া এবং আশুলিয়া থেকে ঢাকামুখী যানবাহনের চলাচল আরও সহজ হবে। পাশাপাশি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল নির্মাণকাজও বাধাহীনভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ইপিজেড থেকে আশুলিয়া হয়ে কাওলা পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এর মাধ্যমে ঢাকার বিদ্যমান এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে নতুন এই রুট যুক্ত হয়ে একটি বড় উড়ালসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে কুড়িল, বনানী ও তেজগাঁও হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নিরবচ্ছিন্ন উড়ালসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এতে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগ আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সাভার ও বাইপাইল এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট কমাতে প্রকল্পের আওতায় বাইপাইল মোড়ে মাল্টি-লেভেল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরে প্রবেশের জন্য বিশেষ র্যাম্প এবং মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১-এর স্টেশনে যাতায়াতের জন্য পৃথক সংযোগও নির্মাণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব অবকাঠামো একসঙ্গে চালু হলে ঢাকা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে আশুলিয়া, সাভার ও ঢাকা ইপিজেডমুখী যানবাহনের চাপ ব্যবস্থাপনায় এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।












