বিএনপির দীর্ঘ ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় অর্জন ও সাফল্যের তালিকা বিশাল ও বিস্তৃত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। দলটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি নিজের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও উপলব্ধি থেকে ৪৮ বছরের ৪৮টি উল্লেখযোগ্য অর্জনের তালিকা তুলে ধরেছেন।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মাহদী আমিন এসব অর্জনের কথা উল্লেখ করেন।
পোস্টে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন গণতান্ত্রিক আদর্শকে ধারণ করে গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের দূরদর্শী, মেধাভিত্তিক ও আধুনিক রূপকল্পে বিএনপি একটি গতিশীল, প্রযুক্তিনির্ভর ও ভবিষ্যৎমুখী শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশের সর্বস্তরের জনগণ, সমর্থক ও নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান মাহদী আমিন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ আন্দোলনে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার জাতীয়তাবাদী নেতাকর্মীদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তিনি।
তার দেওয়া ৪৮টি অর্জনের তালিকায় রয়েছে—
১. বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দর্শনের সফল প্রবর্তন।
২. শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ১৯ দফা।
৩. স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাসম্পন্ন পররাষ্ট্রনীতি।
৪. বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা।
৫. সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা ও সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা।
৬. ওআইসি ও মুসলিম বিশ্বে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব।
৭. সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’কে মূলনীতি হিসেবে প্রবর্তন এবং ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন।
৮. রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন মত-পথ, ধর্ম-বর্ণ, দর্শন-আদর্শ ও অঞ্চলভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৯. দেশব্যাপী খাল কাটা কর্মসূচি।
১০. রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা।
১১. বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির সূচনা।
১২. বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, শিশুপার্ক ও নতুনকুঁড়ি প্রতিষ্ঠা।
১৩. স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদক প্রবর্তন।
১৪. স্বনির্ভর গ্রাম সরকার প্রবর্তন।
১৫. ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠা।
১৬. বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গঠন।
১৭. গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গঠন।
১৮. গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন।
১৯. মুক্তবাজার অর্থনীতির সূচনা।
২০. সংসদীয় গণতন্ত্রে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন।
২১. সংবিধানে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার অন্তর্ভুক্তি।
২২. মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট চালু।
২৩. এসিড অপরাধ দমন আইন প্রণয়ন।
২৪. সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন গঠন।
২৫. প্রাথমিক শিক্ষাকে দেশব্যাপী বাধ্যতামূলক ঘোষণা।
২৬. দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে নারী শিক্ষা চালু এবং স্নাতক পর্যন্ত চালুর সিদ্ধান্ত।
২৭. শ্রমিকবান্ধব নীতি হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম আইন প্রণয়ন।
২৮. খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি প্রবর্তন।
২৯. উচ্চশিক্ষার প্রসারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
৩০. বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
৩১. প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সূচনা।
৩২. জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালু।
৩৩. পরিবেশ সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন।
৩৪. টু-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব সিএনজি চালু।
৩৫. দেশের প্রথম ফ্লাইওভার নির্মাণ।
৩৬. জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি।
৩৭. মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা।
৩৮. প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠন।
৩৯. বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ভিশন-২০৩০।
৪০. স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
৪১. তৃণমূল পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা স্থাপন ও সম্প্রসারণ।
৪২. বেসরকারি খাতে মোবাইল যোগাযোগ উন্মুক্তকরণ এবং বিটিআরসি গঠন।
৪৩. কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠা।
৪৪. রাষ্ট্র সংস্কারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফা।
৪৫. কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ, প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষায় কৃষক কার্ড প্রচলন।
৪৬. নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড প্রচলন।
৪৭. ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, পুরোহিতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসকদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান।
৪৮. বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সর্বাগ্রে রেখে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও স্বাধীনতার মূলনীতিকে ধারণ করে গণমুখী ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতি।
মাহদী আমিন আরও বলেন, স্বাধীনতার মহান ঘোষক জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভরতার দর্শন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কল্যাণমুখী রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুশাসন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তির একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীর ত্যাগ ও আত্মদানের ইতিহাস এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন দলটির রাজনৈতিক অভিযাত্রার সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়।











