হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনার পরও মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনার দুর্গম আলোকদিয়া চরে থেমে নেই অবৈধ বালু উত্তোলন। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের আশপাশে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু তুলে বাল্কহেডে পরিবহন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় গ্রিডের অতিগুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারসংলগ্ন যমুনার একাধিক পয়েন্টে প্রায় আটটি ড্রেজার দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে সেই বালু সারিবদ্ধ বাল্কহেডে বোঝাই করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম চরকে ঘাঁটি বানিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে। বালু উত্তোলনের জায়গাটি পাহারা দেওয়ার জন্য ‘শাহআলম বাহিনী’ নামে একটি সশস্ত্র গ্রুপ মোতায়েন রাখা হয়েছে, যার ফলে সেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াতও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
জাতীয় গ্রিডের টাওয়ারের অতি কাছাকাছি এভাবে বালু তোলায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের একাধিক অভিযান ও আদালতের নির্দেশনার পরও কীভাবে একই এলাকায় এতগুলো ড্রেজার সক্রিয় থাকে—তা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক সহকারী কমিশনার জানান, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইতোমধ্যে একাধিকবার সেখানে অভিযান পরিচালনা করেছেন। নতুন করে ওঠা এই অভিযোগের বিষয়েও জেলা প্রশাসককে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবিলম্বে ড্রেজার ও বাল্কহেডগুলোর বৈধতা যাচাই,অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং সশস্ত্র ‘শাহআলম বাহিনী’র বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।













