মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের প্রত্যক্ষ মদদে প্রতিদিন অন্তত ১০টি ড্রেজার দিয়ে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এ বালু সরবরাহে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ৯০ থেকে ১০০টি বাল্কহেড। ফলে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন।
আইন ও আদালতের নির্দেশ অমান্য
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী চক্র দুর্গম চরাঞ্চলের সুযোগ নিয়ে অবৈধ বালু বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি মহামান্য হাইকোর্ট ওই এলাকায় সব ধরনের বালু উত্তোলন বন্ধের কঠোর নির্দেশনা দেন।
একই সঙ্গে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসককে আগামী দুই মাসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আদালতের এই আদেশের পরও রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলতে দেখা গেছে।
হুমকিতে জাতীয় অবকাঠামো ও পরিবেশ
নদীতীরবর্তী আলোকদিয়া চরের ৭ ও ৮ নম্বর বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের একেবারেই সন্নিকটে এভাবে বালু তোলার কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, অব্যাহত বালু খেকোর থাবায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে তীব্র নদীভাঙন ও ভূমিধস দেখা দেবে। এতে করে শত শত পরিবারের বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এবং স্থানীয় বিদ্যালয়সমূহ স্থায়ীভাবে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আদালতের আদেশ সত্ত্বেও অবাধে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চলবাসী। তাঁদের প্রশ্ন—প্রভাবশালী কোন মহলের শক্তিতে এই চক্র আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সাহস পাচ্ছে?
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান জানান, “অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শিবালয় উপজেলা প্রশাসনকে অবিলম্বে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি,কেবল আশ্বাস কিংবা প্রশাসনিক চিঠি চালাচালিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে অবিলম্বে চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ করা এবং জাতীয় গ্রিডের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন তাঁরা।

















