মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীভাঙনপ্রবণ জনবসতি, বসতবাড়ি এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় আটটি ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শতাধিক বাল্কহেডে বালু লোড-আনলোডের কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী বালু উত্তোলনকারী চক্র প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি,অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে এবং জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারগুলোও হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের একাংশ আরও অভিযোগ করেন, নৌপুলিশের একটি অংশকে ‘ম্যানেজ’ করে কথিত সশস্ত্র ‘শাহআলম বাহিনী’র ছত্রছায়ায় বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নৌপুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুর জোনের নৌপুলিশের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকার বিষয়ে বক্তব্য জানতে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুল আরা সুলতানার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল গ্রহণ করেননি। এ অবস্থায় হাইকোর্টের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।













