পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নসংলগ্ন পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে অনুমোদন ও নির্ধারিত শর্ত লঙ্ঘন করে দিন-রাত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উত্তোলিত বালু নিয়মিত বাল্কহেডে পরিবহন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে চরতারাপুর, কলাবাগান, নিউচর পূর্বপাড়া ও বেলতলাসহ পদ্মার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে একাধিক ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন এবং বিপুলসংখ্যক বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, জোতকাকুরিয়া-কলাবাগান চর নদীপথ, গোহাইলবাড়ী, ভাদুরিয়াডাঙ্গী, নিউচর পূর্বপাড়া, চর ভবানীপুর, বেলতলা ও চরতারাপুর সীমান্তবর্তী নদী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র এই অবৈধ বালু উত্তোলন চালিয়ে আসছে। এমনকি এলাকা পাহারা দিতে স্পিডবোটে সশস্ত্র ব্যক্তিদের অবস্থান করতে দেখা গেছে বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অপকৌশলে ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে এই বালু বাণিজ্য বজায় রাখা হয়েছে। প্রশাসনের কোনো দল অভিযানে আসার আগেই সংশ্লিষ্টদের কাছে গোপন তথ্য পৌঁছে যায়, ফলে মুহূর্তের মধ্যেই ড্রেজার ও বালুবাহী নৌযানগুলো নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন ঢালি জানান, নদীবেষ্টিত এলাকাটি বেশ দুর্গম হওয়ায় সেখানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে কিছু জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। অভিযানের খবর আগেভাগে পৌঁছে যাওয়ায় অনেক সময় ড্রেজার বা সংশ্লিষ্টদের হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয় না স্বীকার করে তিনি বলেন, “নৌপুলিশের সমন্বয়ে খুব শিগগিরই ওই এলাকায় বড় পরিসরে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
উল্লেখ্য, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য বিধান অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া বা শর্ত লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলন একটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং অবৈধ কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার ও নৌযানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নদী ও আশপাশের কৃষিজমি, পরিবেশ এবং জনপদ রক্ষায় অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বালুমহালের ইজারার বৈধতা, ব্যবহৃত ড্রেজার-বাল্কহেডের কাগজপত্র এবং প্রশাসনের অভিযানের তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

















