সাভারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বিরুলিয়া ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে বিস্তৃত হয়েছে মাদকের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডেই দিন-রাত সমানতালে চলছে মাদকের রমরমা কারবার। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে,পুরো ইউনিয়নে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি প্রধান স্পটে নিয়মিত মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলছে। পুলিশের নিয়মিত অভিযানে অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেও আইনি ফাঁকফোকর এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের‘তদবির সংস্কৃতির’কারণে আইনি ব্যবস্থা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়,ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড ও মহল্লাতেই মাদক ব্যবসায়ীদের প্রভাব স্পষ্ট। এর মধ্যে—১ নম্বর ওয়ার্ড: কালিয়াকৈর,কৃষিবিদ বিভাগের বনাঞ্চলের এলাকা ও খনিজ নগর।২ নম্বর ওয়ার্ড: আক্রাইন,বউবাজার, মসজিদপাড়া ও খাগান।৩ নম্বর ওয়ার্ড: কমলাপুর,খ্রিস্টান পাড়া ও রাজারবাগ।
৪ নম্বর ওয়ার্ড:ওয়ালিয়া,মোস্থাপাড়া,সাদুল্লাপুর,আবাসন প্রকল্প ও শ্যামপুর।।৫ নম্বর ওয়ার্ড: বাগ্নিবাড়ি,ফকিরপাড়া, উত্তরপাড়া,সারুলিয়া ও গোলাপ গ্রাম খ্যাত এলাকা।৬ নম্বর ওয়ার্ড: বিরুলিয়া প্রধান গ্রাম, পিপুলিয়া ও তুরাগ নদীর তীরবর্তী এলাকা।৭ নম্বর ওয়ার্ড: আকরান নামাপাড়া,সামাইর ও কাকাবো।৮ নম্বর ওয়ার্ড: ঋষি পাড়া, মসজিদ মার্কেট ও দেউন নিরব এলাকা।৯ নম্বর ওয়ার্ড: দত্তপাড়া,ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা ও খাগানের একাংশ।এসব উল্লেখিত এলাকার সমূহ নিয়মিত মাদকের রমরমা ব্যবসার চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করার কিছুদিন পর তারা জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো—মাদকসেবী বা কারবারিরা আটক হলে স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা তাদের ছাড়িয়ে নিতে সুপারিশ ও তদবির শুরু করেন। জনপ্রতিনিধিদের এই পরোক্ষ মদদই মাদক কারবারিদের বেপরোয়া করে তুলছে।
নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা লোক দেখানি বুলি ছাড়া আর কিছুই নয় বলে দাবি প্রবীণ নাগরিকদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান,”ভোট এলেই প্রার্থীরা মাদকের বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু বিজয়ী হওয়ার পর তাদের আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায় না। এবার জনগণ সচেতন—যারা মাদকের বিরুদ্ধে স্পষ্ট পদক্ষেপ নেবেন না,আসন্ন দিনে তাদের কঠোরভাবে বয়কট করা হবে।”
মাদক বিরোধী তৎপরতার বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে পুলিশ সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’নীতিতে কাজ করছে। বিরুলিয়াসহ সাভারের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো অপরাধী বা তাদের সহযোগীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
তরুণ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিশ্চিত করা এবং পুলিশের চিরুনি অভিযান জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন বিরুলিয়ার সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক।
















