মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অসাধু চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী চক্রের সশস্ত্র পাহারায় দিন-রাত নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, যা জাতীয় গ্রিডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনসহ স্থানীয় জনপদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জাতীয় গ্রিডের ৭ ও ৮ নম্বর বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের খুব কাছাকাছি এলাকা থেকে গত ২৬ অক্টোবর থেকে ৮-৯টি ড্রেজার বসিয়ে অনবরত বালু তোলা হচ্ছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকেও অন্তত আটটি ড্রেজার সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের খবর পেলে সাময়িকভাবে ড্রেজার চালানো বন্ধ রাখা হলেও, তদারকি দল চলে যাওয়ার পরপরই পুনরায় বালু উত্তোলন শুরু করে অসাধু চক্রটি।
আলোকদিয়া চর এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও, স্থানীয়দের দাবি—কার্যকর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু তোলায় তীব্র নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে যমুনাতীরবর্তী ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার ধসে পড়ার প্রবল ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসন পূর্ণ অবগত রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা ও শিবালয় উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের পাশাপাশি বালু খেকোদের বিরুদ্ধেও জেলা প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।”
এদিকে, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করে দ্রুত আলোকদিয়া চরে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। পরিবেশ ও জননিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ অবকাঠামো সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।















