ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচিত ‘মুশা বাহিনী’র প্রধান মোশাররফ হোসেন মুশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চলতি বছরের জুলাইয়ে সংগঠিত অপু রাড়ি হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকার পর শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে দারুস সালাম থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
বিশাল অপরাধের রেকর্ড ও একাধিক মামলা:এর আগে ২০২৫ সালে হেমায়েতপুরের ব্যবসায়ী রমজানকে গুলি করে চাঁদা দাবির অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন থানায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে একাধিক হত্যা মামলাসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁর নাম উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ:স্থানীয় সূত্র ও বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন মুশা। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে সাভারের হেমায়েতপুর, তেঁতুলঝোড়া ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি রাজনৈতিক ছত্রছায়া বজায় রাখতে সক্ষম হন এবং বিএনপির কিছু স্থানীয় নেতার সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
এলাকায় ত্রাস ও দখলের ইতিহাস:স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হেমায়েতপুর ও আশপাশের গার্মেন্টস কারখানা, ঝুট ব্যবসা, বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাত এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসংলগ্ন বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করত মুশা বাহিনী। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় অস্ত্রের মহড়া, জমি ও স্থাপনা দখল, প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে চাঁদা আদায়, হামলা ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় এক আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল তারা।
পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ:
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে অপু রাড়ি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আদালতে তাঁকে রিমান্ডে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হবে।
জনমনে স্বস্তি ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা:মুশার গ্রেপ্তারের খবরে হেমায়েতপুর ও সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মুশা ও তাঁর বাহিনীর সব অপকর্মের সত্যতা উন্মোচিত হবে এবং সাভারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি ঘটবে।














