মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম আলোকাদিয়া চর এলাকায় আবারও প্রকাশ্যে শুরু হয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রভাবশালী একটি চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্তত সাতটি ড্রেজার দিয়ে দিনরাত বালু তোলা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আলোকাদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন বিভিন্ন পয়েন্টে এসব ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। বালু খেকোদের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে একদিকে নদীভাঙনে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের মতো জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
উল্লেখ্য, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী ইতিপূর্বে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত ওই এলাকায় বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসককে দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। তবে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে কীভাবে আবারও বালু উত্তোলন চলছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান জানান, বালু উত্তোলনের তথ্য প্রশাসন পেয়েছে। তিনি বলেন, “কারা এই অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত, খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।”
তবে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তার পরও প্রকাশ্যে সাতটি ড্রেজার দিয়ে নদী কাটার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি—কেবল কথার কথা নয়, অবিলম্বে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এসব ড্রেজার জব্দ করতে হবে এবং এই অবৈধ চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যমুনার ভাঙনে বিস্তৃত এলাকা বিলীন হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


















