বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, পর্যটন এবং মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউ রশীদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
এ সময় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান হাইকমিশনার। এর জবাবে রাষ্ট্রপতি তাঁকে ধন্যবাদ জানান এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের প্রতিও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
সাক্ষাতে ঢাকায় একটি বিজনেস সামিট আয়োজনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মালদ্বীপের হাইকমিশনার। রাষ্ট্রপতি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের পথও সুগম হবে।
মালদ্বীপের অর্থনীতিতে কর্মরত এক লাখের বেশি বাংলাদেশির অবদানের বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জনশক্তি রপ্তানি, পর্যটন, মৎস্য খাত এবং সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।
শিক্ষা খাতের সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। বাংলাদেশে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনার সুযোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত থাকবে।
আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-কে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সার্ককে কার্যকর করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মালদ্বীপের ইতিবাচক ভূমিকা ও সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও গভীর ও সুদৃঢ় হবে।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
















