মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও জেলা প্রশাসনের কঠোর বার্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যমুনা নদী থেকে অব্যাহত রয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্রের প্রত্যক্ষ মদদে সকাল-সন্ধ্যা প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে বালু তোলা হচ্ছে। ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় সরজমিনে যমুনা নদীর আলোকাদিয়া চর এলাকায় দেখা যায়, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের অতি নিকটেই অন্তত ১১টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধভাবে বালু তোলায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীভাঙনে ইতোমধ্যে বহু ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের কাছে বালু তোলায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ জাতীয় অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
জানা যায়, নদীভাঙন ও অবকাঠামোগত ক্ষতি রোধে এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেন এবং দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। তবে আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ড্রেজার চালু থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। বালু উত্তোলনে কারা জড়িত তা অনুসন্ধান করে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে।”
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার জব্দ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ। তা না হলে যমুনার করাল গ্রাসে পুরো জনপদ বিলীন হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।













