শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক খাতকে কেন্দ্র করে আবারও তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে বকেয়া মজুরি পরিশোধ, চাকরিচ্যুতদের পুনর্বাসন এবং ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণসহ নানা দাবিতে একাধিক কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। শ্রমিকরা প্রধান সড়কে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে শিল্প পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই শ্রমিকরা বিভিন্ন কারখানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে এলাকায় উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কসহ শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (APBn) মোতায়েন করা হয়েছে।আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে তাঁদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বারবার জানানো হলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন না পাওয়া এবং হঠাৎ ছাঁটাইয়ের কারণে চরম জীবনসংকটে পড়ার কথা জানান তাঁরা।
অন্যদিকে, পোশাক শিল্প মালিকদের দাবি, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দা ও বৈশ্বিক অর্ডারের অনিশ্চয়তার কারণে কয়েকটি কারখানায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁরা মনে করেন, আলোচনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালানো শিল্পের ভাবমূর্তি ও সার্বিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।পরিস্থিতি সম্পর্কে শিল্প পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে তারা সহানুভূতিশীল হলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবক্ষয় কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।শিল্প খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত মালিক, শ্রমিক ও সরকারের সমন্বয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় কার্যকর আলোচনা না হলে আশুলিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদন অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।















