সর্বশেষ

যমুনা নদীর চরাঞ্চলে সশস্ত্র পাহারায় আলম শেখের নেতৃত্বে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন

স্টাফ রিপোর্টার

যমুনার নদীর চরাঞ্চলে আলম শেখের নেতৃত্বে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় দীর্ঘদিনের চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম ধরা পড়েছে। স্থানীয় ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, কুক্ষাত বালু মাফিয়া চক্রের অন্যতম হোতা আলম শেখ এই অঞ্চলের “অঘোষিত সম্রাট” হিসেবে পরিচিত।

সরেজমিনে দেখা গেছে,ফরিদপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চল এবং রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও গোয়ালন্দের চরাঞ্চলে মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালানো হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে আলম শেখের অনুসারীরা দীর্ঘ সময় ধরে এই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

অপরাধ সংগঠন ও সশস্ত্র পাহারাদার:

শিবালয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ বালু উত্তোলন: জাতীয় গ্রিডের টাওয়ারসহ ঝুঁকিতে নদীতীর ও জনবসতি

উক্ত এলাকায় ড্রেজারের আশেপাশে কয়েকজন সশস্ত্র পাহারাদারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যাদের স্থানীয়রা আলম শেখের বাহিনীর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা চরাঞ্চলের নৌপথ এবং পরিবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছেন। এই সশস্ত্র নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র পরিবেশগত ক্ষয় সৃষ্টি করছে না, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেও সংকটে ফেলছে।পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব:নদী তলার ক্ষতি: অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে চরাঞ্চলের নদীপাড়ের তলার ক্ষতি হচ্ছে।

নিরাপত্তা সংকট: সশস্ত্র পাহারাদারের উপস্থিতির কারণে স্থানীয়রা চরাঞ্চলে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বিপর্যয়: প্রশাসনের নীরবতা এবং সমন্বয়ের অভাবে বালু চোরাচালান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকরা জানিয়েছেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নির্দেশনা আছে। তবে স্থানীয় নৌপুলিশ সুপার জানান, তারা পুরোপুরি অবগত নন, কিন্তু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত কেউ ধরা পড়লে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ১০ তলা থেকে পড়ে কলেজের হিসাবরক্ষকের মৃত্যু

আইনি পরিপ্রেক্ষিত:হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ বালু উত্তোলন চালানো স্পষ্টত আইনের লঙ্ঘন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শামিল, যা বাংলাদেশ Penal Code এবং পরিবেশ রক্ষা সম্পর্কিত বিধানগুলোর আওতায় আসে। এছাড়া, সশস্ত্র বাহিনী নিয়োজিত থাকা এই কর্মকাণ্ড সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসী হুমকির চিহ্ন বহন করে।

উপসংহার:ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর চরাঞ্চলে বালু মাফিয়ার এই অঘোষিত সাম্রাজ্য কেবল পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং স্থানীয় সমাজে সন্ত্রাসের স্ফীতিও তৈরি করছে। প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলমান কার্যক্রম যদি অব্যাহত থাকে, এটি একটি সংগঠিত অপরাধের নিদর্শন হিসেবে গণ্য হবে। নদী অঞ্চলের লোকজন এবং স্থানীয় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা আশঙ্কা করতে এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলমান থাকলে বর্ষা মৌসুমে আমাদের বাড়িঘর আবার ভাঙ্গনের মুখে পড়তে হবে। তাই সংকলিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানাই অবিলম্বে এই অবৈধ কার্যক্রম অভিযান চালিয়ে বন্ধ করতে হবে।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
২৪ জানুয়ারি ২০২৬
Trulli

যমুনা নদীর চরাঞ্চলে সশস্ত্র পাহারায় আলম শেখের নেতৃত্বে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন