সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার উপর দিয়ে বহমান বিআইডব্লিউটিএর যমুনা নদীর চ্যানেলে নদী ভাঙ্গনের অযুহাতে প্রায় ১ মাস যাবত পেশিশক্তি ব্যবহার করে জোর পুর্বক বৈধ লাইসেন্স ধারী নৌযান চলাচলে বাধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে স্থানিয় প্রতিনিধির লোকজনের বিরুদ্ধে।
উক্ত নৌরুটে বৈধ নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারনে প্রায় এক মাসে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মের্সাস এস কনস্ট্রাকশন নামক ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিন অনুসন্ধানে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার উপর জোত্বরঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,সিরাজগঞ্জ ৫ আসন থেকে নির্বাচিত বেলকুচি চৌহালী আসনের এমপি আমিরুল ইসলাম আলিমের লোকজন জোর পুর্বক ও উদ্দেশ্য প্রমোদিত ভাবে মের্সাস এস কনস্ট্রাকশন এর বৈধ মালিকানাধীন ৫০ টির অধিক বাল্কহেড জোর করে নদীর তীর বেঁধে রেখেছে।
তারা উক্ত সরকারি চ্যানেল ব্যাবহারে নৌযান গুলোকে সরাসরি বাঁধা প্রদান করে উক্ত নৌপথে সরাসরি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করেন মের্সাস এস কনস্ট্রাকশন কতৃপক্ষ।
এসকল অভিযোগের বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ৫ আসনের এমপি আমিরুল ইসলাম আলিমের ব্যাক্তিগত মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান,নৌযান চলাচল করার কারনে নদী ভাঙ্গনের কারনে স্থানিয় লোকজন বাঁধা প্রদান করছে,এসময় তিনি আরো বলেন, দরকার হলে তারা অন্যত্র নালা করে নৌযান চালাক,এসময় তাকে প্রশ্ন করলে সরকারি নদীতে চলাচলের বাধা প্রধান করার এখতিয়ার কি কারো আছে? এসময় তিনি বলেন,ভাই এবিষয়ে আমি কথা বলতে ইচ্ছুকনা।
এ বিষয়ে আইন কি বলে, এ ক্ষমতা কেবল সরকার নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের। নিচে প্রাসঙ্গিক আইন ও ধারাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১) Inland Shipping Ordinance, 1976
ধারা ৮৫ (Obstruction of navigation):
কোনো ব্যক্তি যদি নৌপথে বাধা সৃষ্টি করে বা নৌচলাচল ব্যাহত করে—তা দণ্ডনীয় অপরাধ।
অর্থাৎ ব্যক্তিগতভাবে চ্যানেল বন্ধ/বাধা দেওয়া অপরাধের মধ্যে পড়ে। ধারা ৯০–৯২ (Removal of obstructions & penalties):কর্তৃপক্ষ বাধা অপসারণের নির্দেশ দিতে পারে; অমান্য করলে শাস্তি হতে পারে। ২) Bangladesh Inland Water Transport Authority Ordinance, 1958 ধারা ৩ ও ৭:নৌপথ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা BIWTA-এর।
নৌচলাচল সীমিত/স্থগিত করার ক্ষমতা কেবল কর্তৃপক্ষের; ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়।
৩) Bangladesh Water Act, 2013
ধারা ৫–৭ (Public water bodies & control):
নদীসহ জলাশয় রাষ্ট্রের সম্পদ; ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ সরকার নির্ধারণ করবে। জনস্বার্থ ব্যতীত ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ বেআইনি।
৪) Penal Code,1860:ধারা ২৮৩ (Danger or obstruction in public way or line of navigation):সর্বজনীন নৌপথে বিপদ/বাধা সৃষ্টি দণ্ডনীয়। ধারা ৩৪১ (Wrongful restraint) প্রযোজ্য হতে পারে, যদি জোরপূর্বক চলাচল রোধ করা হয়।“নদীভাঙন” থাকলে কীভাবে বন্ধ করা যায়?বাস্তব ঝুঁকি (ভাঙন/ড্রেজিং/নিরাপত্তা) থাকলে BIWTA/জেলা প্রশাসন নোটিশ/আদেশ জারি করে অস্থায়ীভাবে রুট পরিবর্তন বা নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। কোনো ব্যক্তির নিজ উদ্যোগে চ্যানেল বন্ধ করার আইনগত ক্ষমতা নেই।
এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি তবে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।














