ঢাকার দোহার উপজেলায় রান্নার গ্যাস বা এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে ডলার সংকট ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে রান্নার গ্যাস। এই অনিয়ম রোধে আজ (২এপ্রিল,২০২৬) সকালে দোহার উপজেলা প্রশাসন জয়পাড়া বাজারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক গ্যাস ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩৪১ থেকে ১৩৫৬ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করে দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই। বাস্তবে সাধারণ ক্রেতাদের একটি সিলিন্ডার কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০০০ থেকে ২১০০ টাকা।
খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগের আঙুল ডিলার ও কোম্পানির দিকে উপজেলার করিমগঞ্জ, পালামগঞ্জ ও জয়পাড়া বাজারের একাধিক খুচরা বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে আছেন। তাদের অভিযোগ, আগে যে সিলিন্ডার ১১০০-১২০০ টাকায় কেনা যেত, এখন তা ডিলার বা গোডাউন থেকে কোম্পানি ভেদে ১৮৫০ থেকে ১৯৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বড় কোম্পানিগুলো সরাসরি দাম না বাড়িয়ে ডিলারদের মাধ্যমে “শর্ট সাপ্লাই” বা সরবরাহ ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে খুচরা ব্যবসায়িদের ধারনা।
বেশি দামে কেনার কারণে খুচরা বিক্রেতারা যখন বাড়তি দামে বিক্রি করছেন, তখন সাধারণ ক্রেতাদের সাথে প্রতিনিয়ত তর্কা-বিতর্কি ও আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।
আজকের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া দোহার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠা এই জ্বালানি যন্ত্রণা লাঘবে তাদের তদারকি অব্যাহত থাকবে। জয়পাড়া বাজারে একজনকে জরিমানা করা হলেও অন্যান্য বাজারের ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষ বলছেন, কেবল ডিলার পর্যায়ে জরিমানা করলেই হবে না; পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতেও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ওপর এই বিশাল আর্থিক বোঝা কমানো সম্ভব হবে না।













