সাভারে কুখ্যাত মাদক সম্্রাট ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হৃদয় মিয়া সোয়া কোটি টাকার হেরোইনসহ আটক হয়েছে।
সোমবার রাতে সাভার পৌর এলাকার পালোয়ান পাড়ায় শামীমের গেরেজ হতে ১ কেজি ২’শ ৪৫ গ্রাম হেরোইনসহ র্যাবের হাতে আটক হয় হৃদয়। একই সময় অপর শীর্ষ মাদক সম্রাট শামীম কৌশলে পালিয়ে যায়। হৃদয় মাদক ব্যবসা নির্বিগ্নভাবে চালিয়ে যেতে চাপাইন,দেওগা ও রাজাশনে প্রায় একশো সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিল। কিন্তু দুই বছরের মাথায় তার শেষ রক্ষা হইলো না।
জানাগেছে,র্যাব -৪ এর সাভার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহনুর কবির ও স্কোয়াড কমান্ডার হালিউজ্জামানের নেতৃত্বে মাদকের একটি বড় চালানের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে সাভার পৌর এলাকার পশ্চিম রাজাশনের পালোয়ান পাড়ায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সাভার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি হৃদয় মিয়াকে ১ কেজি ২’শ ৪৫ গ্রামসহ আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক মূল্য এক কোটি চব্বিশ লক্ষ পঞ্চার হাজার টাকা।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, হৃদয়ের বাড়ি সাভার পৌরসভা সংলগ্ন সাভার সদর ইউনিয়নের দেওগাঁও গ্রামে। তার পিতার নাম মতি মিয়া। তার বিরুদ্ধে এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ নেতা হৃদয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে রাজপথে বেশ সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল।
৫ আগষ্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সে নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। সাভার থানা ছাত্র দলনেতা মাহবুব সামীর তার সহোদর। হৃদয় এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই,কিশোর গ্যাং পরিচালনাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত। মাদক ব্যবসা নির্বগ্নে চালিয়ে যেতে হৃদয় ও শামীম প্রায় বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে প্রায় শত সিসিটিভি ক্যামেরা সেটআপ করে।
চাপাইন,দেওগা, রাজাশনের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে এ সকল ক্যামেরা স্থাপন করেও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। হৃদয় ও শামীমের প্রভাবে সাভার পৌর এলাকা ও সাভার সদর ইউনিয়ন এলাকা মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান ।











