এম রানা:
দৈনিক ইনকিলাব অনলাইনে সম্প্রতি প্রকাশিত “অবৈধ স্পা সেন্টার থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অপারেশন মিজানুর ও ফাঁড়ি ইনচার্জ সালমানের বিরুদ্ধে” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন পাঠক, সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রতিবেদনে একাধিক ব্যক্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও অভিযোগগুলোর পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আদালতের কোনো পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গণমাধ্যম পর্যবেক্ষকদের মতে, সাংবাদিকতার অন্যতম মৌলিক নীতি হলো তথ্য যাচাই, নিরপেক্ষতা এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণভিত্তিক উপস্থাপন। কিন্তু আলোচিত প্রতিবেদনে বিভিন্ন স্থানে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে যা সংবাদ প্রতিবেদনের পরিবর্তে মতামতধর্মী বা অভিযোগনির্ভর বক্তব্য হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে।
এছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিভিন্ন বক্তব্যের ক্ষেত্রে তথ্যসূত্র স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও “স্থানীয় সূত্র”, “অনুসন্ধানে জানা গেছে” বা “অভিযোগ রয়েছে” ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হলেও সেই সূত্রগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা ও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে পাঠককে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো এলাকায় স্পা সেন্টার, গেস্ট হাউস বা অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বিষয় হতে পারে। তবে অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আগে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য সমান গুরুত্বে উপস্থাপন করা জরুরি।
পাঠকদের একটি অংশ আরও অভিযোগ করেছেন, প্রতিবেদনে বেশ কিছু বানান ও ভাষাগত অসংগতি রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম, প্রশাসনিক পদবী এবং সাধারণ শব্দের বানানে অসঙ্গতি দেখা গেছে। ফলে একটি জাতীয় পর্যায়ের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সম্পাদনাগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইন সাংবাদিকতার যুগে দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতা থাকলেও তথ্য যাচাই ও ভাষাগত শুদ্ধতার সঙ্গে কোনো আপস করা উচিত নয়। কারণ একটি সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থার ভাবমূর্তি সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা মনে করেন, আলোচিত প্রতিবেদনটি নিয়ে সম্পাদকীয় পর্যায়ে পুনর্মূল্যায়ন করা হলে এবং অভিযোগের পক্ষে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হলে পাঠকদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি অনেকাংশে দূর হতে পারে।
সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা রক্ষায় তথ্যনির্ভর, বস্তুনিষ্ঠ এবং ভারসাম্যপূর্ণ সংবাদ পরিবেশনের বিকল্প নেই বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।















