কুমিল্লায় একজন অসহায় অটো-গ্যারেজ মালিকের রিকশা থেকে দামী ব্যাটারি চুরির ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানা এলাকার কুচাইতলী পূর্বপাড়ার ‘স্বপনের অটো-রিকশার গ্যারেজ’-এর মালিক মোঃ সামসু মিয়া (৪০)। তিনি গত ১৭/০৬/২০২৩ তারিখে পুলিশ সুপার (এসপি), কুমিল্লা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরেও এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন।
দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগপত্র (যা এই সংবাদ প্রতিবেদনের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে) অনুযায়ী, ঘটনার বিবরণ হলো: গত ১৩/০৬/২০২৩ তারিখ সকালে অভিযুক্ত মোঃ শরিফুল ইসলাম (৩০), যিনি পেশায় একজন পুলিশ সদস্য এবং বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছেন বলে জানা গেছে, সামসু মিয়ার গ্যারেজে আসেন। তিনি তার অসহায়ত্বের কথা বলে সামসু মিয়াকে বিশ্বাস অর্জন করেন এবং তার গ্যারেজ থেকে একটি ৪-ব্যাটারি বিশিষ্ট কমলা রঙের অটো-মিশুক গাড়ি চালানোর জন্য নিয়ে যান।

পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় পার হলেও অভিযুক্ত শরিফুল গাড়িটি ফেরত না দেওয়ায় এবং তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়ায় সামসু মিয়া চিন্তিত হয়ে পড়েন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর, ওই দিন বিকেলেই অভিযুক্ত শরিফুল অন্য একটি মোবাইল নম্বর থেকে কল করে জানান যে, গাড়িটি হাউজিং এস্টেট সংলগ্ন হাইওয়ে পুলিশ ব্যারাকের সামনে রাখা আছে এবং কে বা কারা গাড়িটির দামী ৪টি ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত শরিফুল এই চুরির ঘটনা নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি না করার জন্য এবং কাউকে না জানানোর জন্য সামসু মিয়াকে চাপ দেন। সামসু মিয়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাইওয়ে পুলিশ ব্যারাকের সামনে থেকে শুধু গাড়ির কাঠামোটি উদ্ধার করেন, কিন্তু ব্যাটারিগুলো পাওয়া যায়নি। চুরি যাওয়া ৪টি ব্যাটারির বাজার মূল্য প্রায় ৬০,০০০/- (ষাট হাজার) টাকা বলে জানা গেছে।
এই চুরির ঘটনা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির রহস্যজনক ভূমিকার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এবং চুরি যাওয়া ব্যাটারিগুলো উদ্ধারের দাবিতে ভুক্তভোগী সামসু মিয়া গত ১৭ জুন পুলিশের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি, পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু অভিযোগ করার পরেও প্রায় [অভিযোগের পর থেকে আজকের দিন পর্যন্ত কত দিন হয়েছে, তা হিসাব করে এখানে বসান] দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ বা তদন্তের অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সামসু মিয়া বলেন, “আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আমার এত বড় লোকসান আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। আমি ভেবেছিলাম এসপি স্যারের কাছে অভিযোগ দিলে ন্যায়বিচার পাব। কিন্তু এত দিন পরেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমি আরও হতাশ হয়ে পড়েছি।”
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পক্ষ থেকেও এই অভিযোগের অগ্রগতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেই চুরির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং পরবর্তীতে অভিযোগ দেওয়ার পরেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।















