সর্বশেষ

অবৈধ বালু উত্তোলনে ঝুঁকিতে বসতবাড়ি বিভিন্ন স্থাপনা জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড,ক্ষুব্ধ:দ্রুত অভিযানের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চর এলাকায় যমুনা নদীতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আইন ও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, জনবসতি ও কৃষিজমির নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সরেজমিনে আলোকদিয়া চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যমুনা নদীর তীরবর্তী অংশে একাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ড্রেজার জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার, বসতবাড়ি ও আবাদি জমির অতি নিকটবর্তী এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান,অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার রক্ষার দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে প্রতিবাদের পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

আশুলিয়ায় কারখানা বিস্ফোরণে হতাহতদের স্মরণে মানববন্ধন,ক্ষতিপূরণ ও শাস্তির দাবি

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং জনপদ ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তারা দাবি করেন, প্রশাসনের নজরে বিষয়টি বারবার আনা হলেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।এদিকে অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্রের পক্ষে কিছু সশস্ত্র ব্যক্তি এলাকায় অবস্থান করে কার্যক্রম তদারকি করছে। এ কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলে স্থানীয়দের দাবি।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ
সংশ্লিষ্ট আইনজ্ঞদের মতে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত) অনুযায়ী অনুমোদিত ইজারাভুক্ত এলাকা ছাড়া বালু উত্তোলন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো, বাঁধ, সেতু, সরকারি স্থাপনা ও জনবসতির নিকটবর্তী এলাকায় বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড, ড্রেজার জব্দ এবং অন্যান্য দণ্ডমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের নিকটে প্রকাশ্যে একাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কেন কার্যকর অভিযান পরিচালিত হয়নি। তারা অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অবৈধ ড্রেজার জব্দ, জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের এবং নদী ও জনবসতি রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে নদীভাঙন,অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং জননিরাপত্তা সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

চুয়াডাঙ্গার নয় মাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যু, আহত ৩

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
২৩ জুন ২০২৬
Trulli

অবৈধ বালু উত্তোলনে ঝুঁকিতে বসতবাড়ি বিভিন্ন স্থাপনা জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড,ক্ষুব্ধ:দ্রুত অভিযানের দাবি