দেশজুড়ে অনলাইন জুয়া ও মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যুবসমাজের একটি বড় অংশ এসব অপসংস্কৃতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ায় পরিবার ও সমাজে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, যুবসমাজকে রক্ষায় এখনই কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সরকার ইতোমধ্যে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। এ আইনে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে আইন থাকলেও অনেক এলাকায় এর কার্যকর প্রয়োগ ও নিয়মিত অভিযান না থাকায় অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
কক্সবাজার জেলা সহ ঈদগাঁও উপজেলা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশে অবস্থানরত অনেক ব্যক্তি অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে তরুণরা লেখাপড়ায় মনোযোগ হারিয়ে পিতা-মাতার কষ্টার্জিত অর্থ জুয়ার পেছনে ব্যয় করছে। অনেকেই লাখ লাখ টাকা হারিয়ে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে মাদকাসক্তি, চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন জুয়া ও মাদকের কারণে পরিবারে অশান্তি, দাম্পত্য কলহ, ঋণের বোঝা, নৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
সচেতন নাগরিকরা অনলাইন জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত বিশেষ অভিযান, প্রযুক্তিগত নজরদারি বৃদ্ধি এবং ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।











