সর্বশেষ

মানিকগঞ্জে প্রশাসনের চোখের সামনেই যমুনায় বালু লুট,ঝুঁকিতে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড,সহস্রাধিক বসতবাড়ি

স্টাফ রিপোর্টার

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর আলোকদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ একটি চক্র উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার ব্যবহার করে দিন-রাত নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে শতাধিক বাল্কহেডে পরিবহন করছে। একাধিক লিখিত অভিযোগ, মানববন্ধন ও গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরও কার্যকর অভিযান না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (৪ জুলাই ) সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৯টি ড্রেজারের মাধ্যমে যমুনার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করে প্রায় ১৫০টি বাল্কহেডে পরিবহন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজার ও বাল্কহেড পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি।

বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রভাবশালী একটি বালু সিন্ডিকেট রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ টাওয়ার, শত শত বসতবাড়ি, কয়েক হাজার বিঘা কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

শিবালয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ বালু উত্তোলন: জাতীয় গ্রিডের টাওয়ারসহ ঝুঁকিতে নদীতীর ও জনবসতি

স্থানীয়রা জানান, গত ১১ জুন জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ, ২০ জুন এলাকাবাসীর মানববন্ধন এবং ১ জুলাই বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচির পরও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে অভিযোগকারীদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তারা হুমকি-ভীতির মুখে পড়ছেন।

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার বলেন, এর আগে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিনে কোনো দৃশ্যমান অভিযান দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আইন কী বলছে,বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০ অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত ও ইজারাকৃত বালুমহাল ছাড়া অন্য কোথাও ড্রেজার বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ করে নদীতীর, সেতু, বাঁধ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো এবং জনবসতির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়—এমন এলাকায় বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। অপরাধ প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

বরিশাল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ১০ তলা থেকে পড়ে কলেজের হিসাবরক্ষকের মৃত্যু

পরিবেশ ও নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়, নদীভাঙন ত্বরান্বিত হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধসে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং জাতীয় গ্রিডের টাওয়ার, জনবসতি ও কৃষিজমি রক্ষায় জরুরি অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
০৪ জুলাই ২০২৬
Trulli

মানিকগঞ্জে প্রশাসনের চোখের সামনেই যমুনায় বালু লুট,ঝুঁকিতে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড,সহস্রাধিক বসতবাড়ি