কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তার দাবি, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ১৮০ দিনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি সন্তোষজনক।
মঙ্গলবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। বরং চাহিদার তুলনায় বেশি সার মজুত রয়েছে এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার মজুতও বেশি। কৃত্রিম সংকটের প্রচারকে তিনি পরিকল্পিত বিভ্রান্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
কৃষকদের সহায়তায় প্রতি মাসে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ কৃষকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে পাইলট প্রকল্পে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের তথ্যভান্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ছয় মাসে ২৫ লাখ চারা রোপণের লক্ষ্যের বিপরীতে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি চারা রোপণ হয়েছে। একই সময়ে ৪৭৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে।
পেঁয়াজ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, চলতি বছর এখন পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আগে সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজের বড় অংশ নষ্ট হতো। প্রযুক্তির ব্যবহারে এখন প্রায় ছয় মাস পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি পাট ও পেঁয়াজের বীজ এবং আদার ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কৃষি উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবে আগামী বছর থেকে হাওড় অঞ্চলে ‘ব্রি ১১৮’ ধানের চাষ শুরুর পরিকল্পনাও জানিয়েছেন মন্ত্রী। প্রচলিত সময়ের ১০ থেকে ১৫ দিন আগে এ জাত রোপণ করা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কৃষকের সেচ ব্যয় কমাতে দেশের সেচ পাম্পগুলো সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এরই মধ্যে ৬০ থেকে ৬২ হাজার পাম্প সৌরবিদ্যুতে পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।













