সর্বশেষ

শিবালয়- দৌলতপুর যমুনায় অবৈধ বালু উত্তোলনে মানববন্ধন:কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জের শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে দাবি করে অবিলম্বে এ কার্যক্রম বন্ধ, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬)বাঘুটিয়া বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন,শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া চর এলাকায় যমুনা নদীতে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা এবং জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে প্রায় ১০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী বালু মাফিয়া চক্র। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, বাজার,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে তারা দাবি করেন।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন একাধিকবার জেলা প্রশাসন,নৌপুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা সশস্ত্র পাহারায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।

পাবনা সদর থানার এসআই মাহবুব রাজশাহী রেঞ্জের ‘শ্রেষ্ঠ অস্ত্র উদ্ধারকারী অফিসার’ নির্বাচিত

মানববন্ধন থেকে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা থেকে অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ।

অবৈধ ড্রেজার জব্দ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীভাঙন রোধে জরুরি কার্যক্রম বাস্তবায়ন।
অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কথিত বালু সিন্ডিকেট ও মদদ-দাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। অবৈধ কার্যক্রমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত সশস্ত্র পাহারাদার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার। অভিযোগ পাওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা। পাটুরিয়া নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।অবৈধ বালু ব্যবসার মূল হোতা ও গডফাদারদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।

চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা, বসতবাড়ি,বাজারঘাট ও জনপদ রক্ষায় আলোকদিয়া এলাকায় স্থায়ীভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে হাজারো মানুষ গৃহহীন হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়তে পারে।

পাচারের সময় চুয়াডাঙ্গায় ১ কোটি টাকার স্বর্ণসহ চোরাকারবারি আটক

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য,বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করা কিংবা পরিবেশ ও জনস্বার্থের ক্ষতি করে বালু আহরণ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের আওতায় ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
১৫ জুলাই ২০২৬
Trulli

শিবালয়- দৌলতপুর যমুনায় অবৈধ বালু উত্তোলনে মানববন্ধন:কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি