কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাস স্টেশন ও বাজার এলাকায় সড়কের দুই পাশ দখল করে যানবাহন পার্কিং এবং ভাসমান দোকান বসানোর কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারী, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের নিয়ে চলাচলকারী মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদগাঁও বাস স্টেশন থেকে বাজারের বিভিন্ন অংশে সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে টমটম, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন। পাশাপাশি ফুটপাত ও সড়কের পাশের জায়গা দখল করে বসেছে নানা ধরনের ভাসমান দোকান। এতে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
ব্যস্ততম এ এলাকায় যানবাহনের চাপের সঙ্গে সড়কের দুই পাশে অব্যবস্থাপনা যুক্ত হওয়ায় প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
অনেক সময় পথচারীদের বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও ফুটপাত দখলের এমন চিত্র চলে এলেও কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হচ্ছে না। এর আগে ঈদগাঁও বাজারে যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তবে এর সুফল খুব একটা দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সড়ক ও ফুটপাত মানুষের চলাচলের জন্য। এগুলো দখল হয়ে থাকলে সাধারণ মানুষ চলাচল করবে কীভাবে?” বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার সময় যানজট ও সড়ক দখলের কারণে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
সচেতন মহলের মতে, শুধু সাময়িক অভিযান পরিচালনা করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং ও স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে ভাসমান দোকানগুলোকে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের প্রত্যাশা, ঈদগাঁও বাস স্টেশন ও বাজার এলাকার সড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত করে যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে।















