যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন কাঠামোর আওতায় কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধ পরিচালনার কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রচারিত এক প্রামাণ্যচিত্রে এসব তথ্য তুলে ধরেন আইআরজিসির ওই কর্মকর্তা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সংঘাতগুলো থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তে আরও সমন্বিত ও ভিন্নধর্মী পদ্ধতি গ্রহণের চেষ্টা করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় যুদ্ধ পরিচালনার কৌশলের পাশাপাশি ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও কারিগরি প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ ও বিনিময়ের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আইআরজিসির ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, এসব সংস্কারের ফলে সংঘাতের সময় ইরান তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে পেরেছে।
যুদ্ধবিরতির পরও মতবিরোধ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। পরে ১৭ জুন দুই দেশ একটি চুক্তিতে সই করে এবং চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য আলোচনা শুরু করে।
তবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার মতো বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য তৈরি হয়। একপর্যায়ে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।
এরপর ৮ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে ফের সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাল্টা জবাবে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে ইরান।










