গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগও আপাতত কোনো ফল বয়ে আনতে পারেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার সম্প্রতি ইসরাইল সফর করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করলেও যুদ্ধবিরতির বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি।
মার্কিন প্রস্তাবে হামাস সম্মতি জানালেও নেতানিয়াহু সেটি গ্রহণে রাজি হননি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত বন্ধের আলোচনা আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর অবস্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে তিনি নিজেকে দেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় নেতা হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। গাজা, লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত চলমান থাকায় তার রাজনৈতিক সমর্থকদের মধ্যেও কঠোর অবস্থানের প্রতি সমর্থন রয়েছে।
মার্কিন চাপ উপেক্ষা করাও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়ে তিনি নিজের সমর্থকদের কাছে আরও দৃঢ়চেতা নেতা হিসেবে অবস্থান তৈরি করতে চাইছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতির সঙ্গেও সম্পর্কিত বলে আলোচনা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলার শুনানি পিছিয়ে দিতে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি, জরুরি সরকারি কার্যক্রম কিংবা বিদেশ সফরের মতো কারণ সামনে আসছে।
যুদ্ধের কারণে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা খাত সক্রিয় থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ওইসিডিও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে সতর্ক করেছে।
তবে এসব ঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি নেতানিয়াহু।











