নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতা ও রিকশা গ্যারেজ মালিক জাহিদ হাসান বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তাদের বিক্ষোভের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মদনপুর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল, জাহিদ হাসান বুলবুল হত্যায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে। সকাল পৌনে ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ৪৫ বছর বয়সী বুলবুল ওই এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে এবং স্থানীয় একটি রিকশা গ্যারেজের মালিক ছিলেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তার রিকশা গ্যারেজে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুলবুল বন্দর থানায় মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় সিফাতকে প্রধান আসামি করা হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় বুলবুলকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলের সঙ্গে সিফাত ও তার সহযোগীদের দেখা হয়। মামলা তুলে নেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে আঘাত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বন্দর থানার ওসি জামাল হোসেন জানান, সিফাতকে রাতেই আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।











