বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জুয়েলার্সের দোকানে ঢুকে মো. দ্বীপ হাসান নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত এবং স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে সান্তাহার পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রানা খান (৩৮) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে আদমদীঘি থানায় আহত দ্বীপ মামলাটি দায়ের করেন। আহত ব্যবসায়ী দ্বীপ হাসান কলসা রথবাড়ী এলাকার মৃত জুলহাস মন্ডলের ছেলে।ঘটনাটি গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সান্তাহার পৌরসভার পোস্ট অফিস রোড সংলগ্ন মাসুদ জুয়েলার্সে ঘটে বলে থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় রানা খানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি জুয়েলার্সের দোকানে প্রবেশ করেন। এ সময় রানা খানের হাতে থাকা বার্মিজ চাকু দিয়ে দ্বীপ হাসানকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেটে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি ডান হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করলে তার বাম হাতের মধ্যমা আঙুলের গোড়ায় গুরুতর কাটা জখম হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই সময় দোকানের শোকেস থেকে দুটি স্বর্ণের চেইন, যার মোট ওজন এক ভরি এবং দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, যার ওজন প্রায় আধা ভরি—সর্বমোট দেড় ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া বাইরে থেকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দোকানের দরজা ও থাই গ্লাস ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগও করা হয়েছে।
আহত ব্যবসায়ী চিৎকার করে সাহায্য চাইলে সাক্ষী নাজু বেগম ও মো. বিদ্যুৎসহ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। তখন অভিযুক্তরা মামলা করলে দ্বীপ হাসান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে আহত দ্বীপ হাসানকে একটি সিএনজিযোগে আদমদীঘি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাতে আটটি সেলাই দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরে তিনি ২১ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে স্বজন, সাক্ষী ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এসে এজাহার দায়ের করায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











