সাম্প্রতিক সময়ে পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একটি কুচক্রী মহল ডিবি কার্যালয়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে এক তরুণীকে ভীতি প্রদর্শন ও জিম্মি করে একটি সাজানো ভিডিও ধারণ করে এবং তা অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। এর প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে স্থানীয় সাংবাদিকরা ফুঁসে ওঠেন।
ঘটনার বিবরণঃ গত ১২ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী তরুণী নাফিসা তার বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সুবর্ণা হালিম নামের এক নারী নেত্রীর মাধ্যমে তাকে জিম্মি করে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরবর্তীতে, ডিবি কার্যালয়ে মা-বাবার উপস্থিতিতে সোহেল রানা বিপ্লব নামক এক কথিত সাংবাদিক এই সাজানো বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। নাফিসা ইতোমধ্যে থানায় দায়ের করা মিথ্যা অভিযোগটি লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
সাংবাদিক সমাজের কর্মসূচি ও প্রতিবাদঃ এই ঘটনার প্রতিবাদে পাবনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। প্রায় শতাধিক সংবাদকর্মীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেন যে, মূলধারার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মাদক ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তোলা চক্রটি রাজনৈতিক ও পুলিশি সহায়তায় এই সাজানো নাটকের আশ্রয় নিয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্যঃ পাবনা ডিবি পুলিশের ওসি রাশেদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী পরিবার আতঙ্কিত হয়ে নিরাপত্তা চাইলে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং সেখানেই কোনো এক পর্যায়ে ভিডিওটি ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান যে বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং এর নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
গৃহীত পদক্ষেপ ও দাবিঃ মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকরা পাবনার পুলিশ সুপার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে জড়িত সকল অসাধু চক্র,রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।












