ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট এবং এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ভুক্তভোগীর সন্তানকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে এই নির্মম নির্যাতন ও ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় রাজিব নামের এক অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার বিকেলে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান সেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে শরীফ (২৩), আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজিব (২৩) ও এনামুল (২২) নামের পাঁচ যুবক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই প্রবাসীর বাড়িতে ঢোকেন। প্রথমে তারা পানীয় জল পানের অজুহাত দেখান। প্রবাসীর ছেলে পানি নিয়ে দরজার কাছে এলে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাড়ির উঠানের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়।
এরপর অভিযুক্তরা ঘরের ভেতরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে জিম্মি করে ফেলে। তারা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ৫ লাখ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, লুটপাট শেষে প্রবাসীর ছেলের গলায় ধারালো চাপাতি ধরে পাশের ঘরে তার মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে অভিযুক্তরা। একই সাথে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। পালানোর আগে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করে অভিযুক্তরা। ঘটনার কথা কাউকে জানালে বা পুলিশে অভিযোগ করলে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের আত্মচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন এবং স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
শুক্রবার বিকেলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত রাজিবকে আটক করে। আটককালে ধর্ষণের ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি তিনি নিকটস্থ পানিতে ফেলে দেন, যা পরবর্তীতে পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান সেখ জানান, “এ ঘটনায় ইতোমধ্যে রাজিব নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দায়ের করেছেন। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”



















