ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ও আহতদের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের চরম বাধার মুখে পড়েছেন কর্মরত সাংবাদিকরা। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া ছাড়াও সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ‘আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতাল’-এর সিকিউরিটি ইনচার্জ রাজুসহ কয়েকজন নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে আশুলিয়ার জামগড়ায় অবস্থিত প্রীতি গ্রুপের একটি কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজন শ্রমিক দগ্ধ ও আহত হলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে আহতদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উক্ত হাসপাতালে যান। তবে সাংবাদিকরা হাসপাতালে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে সিকিউরিটি ইনচার্জ রাজুর নেতৃত্বে নিরাপত্তা প্রহরীরা তাদের পথরোধ করে এবং প্রবেশে সরাসরি বাধা দেয়।
একপর্যায়ে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা। এর এক পর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে থাকা ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় এবং হাসপাতালে সংবাদকর্মীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ বলে জানিয়ে দেয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন মারমুখী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপস্থিত সাংবাদিকদের অভিযোগ, আগুনে দগ্ধ শ্রমিকদের প্রকৃত সংখ্যা ও শারীরিক অবস্থার তথ্য গোপন করতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তারক্ষীদের দিয়ে এমন অপচেষ্টা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের ওপর এমন বাধা প্রদান, অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। তারা অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।














