ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাট বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সার্বিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে দফায় দফায় বিভিন্ন পোশাক কারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে আশুলিয়ার নতুন ডিইপিজেড (DEPZ) এলাকার সামনে উপস্থিত হয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তিনি।
পুলিশ সূত্র জানায়, সর্বনিম্ন মাসিক মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত ছয় দিন ধরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলন চলছে। এর প্রভাবে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাভার-আশুলিয়া, মিরপুর ও গাজীপুরের বেশ কিছু পোশাক কারখানায় হামলা, সংঘাত ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
চলমান এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত একজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে এবং সংঘাতের মুখে পড়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও আহত হয়েছেন। জানা গেছে, সাভারের ওসিসহ ২৫-৩০ জন পুলিশ সদস্য, সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদাসহ সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর অঞ্চলের অন্তত ২২ জন সাংবাদিক এবং সর্বমোট প্রায় দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিল্পাঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সহিংসতায় জড়িতদের বিষয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার অভিযোগে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িত অন্যদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্দোলনরত শ্রমিকদের যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবিগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট কারখানা মালিক ও প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। একই সাথে পোশাক শিল্পের মতো সংবেদনশীল খাতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
















