হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মানিকগঞ্জের শিবালয়ে যমুনা নদীর আলোকাদিয়া চর এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন এলাকা থেকে ড্রেজার বসিয়ে এভাবে নির্বিচারে বালু তোলায় নদীভাঙনের পাশাপাশি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে জাতীয় সম্পদ ও পরিবেশ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে আলোকাদিয়া চর এলাকায় গিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১১টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে একযোগে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি বালুমহাল চক্র সশস্ত্র বাহিনীর পাহারায় দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন বেপরোয়া তৎপরতা চললেও কার্যকর কোনো প্রতিরোধ চোখে পড়েনি। এমনকি সংবেদনশীল এই এলাকায় নৌপুলিশের নিয়মিত টহল না থাকার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থায়ীদের দাবি, অনিয়ন্ত্রিতভাবে নদী থেকে বালু কাটার ফলে আলোকাদিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নদীভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেন এবং দুই মাসের মধ্যে সমন্বিত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ জারি করেন। তবে আদালতের কঠোর নির্দেশনা থাকার পরও বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান জানান, বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার পরও কীভাবে প্রকাশ্যে একাধিক ড্রেজার চালিয়ে নদী ধ্বংস করা হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ টাওয়ার রক্ষা ও জনস্বার্থে অতি দ্রুত জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ও পরিবেশ পরিদপ্তরের যৌথ কার্যকর অভিযান চালানের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।













