টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নে ধলেশ্বরী নদীর উপর সেতুর অভাবে তিন উপজেলার হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবন থমকে আছে। শুধুমাত্র খেয়াঘাটের ওপর নির্ভর করে নদী পারাপার করতে গিয়ে প্রতিদিন ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা।
টাঙ্গাইল শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মাহমুদনগর ইউনিয়ন। প্রায় ২৪টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এই ইউনিয়নে বসবাস করেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। ২০০৪ সালে কাতুলী ইউনিয়ন থেকে আলাদা হয়ে গঠিত এই চরাঞ্চলকে ‘স্বর্ণদ্বীপ’ বলা হয় উর্বর পলিমাটির জন্য। কিন্তু গোলচত্বর থেকে মাকোরকোল গ্রাম পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার প্রশস্ত ধলেশ্বরী নদী পার হওয়ার কোনো স্থায়ী সেতু নেই।
শুকনো মৌসুমে তপ্ত বালুচর পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ার গাড়ি-ভ্যান নিয়ে পার হতে হয়। বর্ষায় খেয়া নৌকার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হয়। নৌকায় ভ্যান তুলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। রোগী, প্রসূতি মা, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। জরুরি চিকিৎসার জন্য শহরে নিতে গিয়ে অনেকের জীবনও যায়। কৃষকরা ফসল বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ গুনতে বাধ্য হন, ফলে ন্যায্যমূল্য পান না।
এই পথ দিয়ে শুধু মাহমুদনগর ইউনিয়নের মানুষই নয়, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাড়রা ইউনিয়ন এবং সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার হাজার হাজার মানুষও যাতায়াত করেন। ফলে তিন উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনের আগে সেতুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে তা ভুলে যাওয়া হয়। মাহমুদনগর ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম শিকদার জানান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানের উদ্যোগে একবার টেন্ডার পর্যন্ত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কাজ আর এগোয়নি।
টাঙ্গাইল এলজিইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জরিপ ও পরিমাপ সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। বড় বাজেটের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি। অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
খেয়াঘাটের ইজারাদার সোবহান মিয়া বলেন, “সেতু হলে মানুষের কষ্ট যেমন কমবে, তেমনি এলাকার উন্নয়নও হবে।” কৃষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একযোগে দাবি জানিয়েছেন—ধলেশ্বরী নদীর উপর ‘মাহমুদনগর সেতু’ নির্মাণ করে তাদের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।
স্থানীয়রা আশা করছেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন যাতে তিন উপজেলার মানুষের গ্রামীণ জীবন স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসে।












