সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ব্যস্ততম আক্রান চৌরাস্তায় অনিয়ন্ত্রিত ও এলোমেলো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপটে প্রতিদিন চরম যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিনের এই নিত্যদিনের ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীদের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, আক্রান চৌরাস্তাটি সাভার ও বিরুলিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগস্থল। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকারসহ অসংখ্য ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচল করে। তবে মূল গোলযোগ তৈরি করছে অটোরিকশা। অটোরিকশা চালকেরা কোনো প্রকার ট্রাফিক আইন বা নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে চৌরাস্তার মাঝখানেই বেপরোয়াভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো করছে। মোড়ের চারপাশ দখল করে এলোমেলোভাবে গাড়ি পার্কিং করায় যানজট এখন দিনরাতের স্বাভাবিক চিত্রে পরিণত হয়েছে।
দুর্ভোগ নিরসনে ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশ, আনসার সদস্য এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীরা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তারা অটোরিকশা চালকদের নিয়ন্ত্রণে কোনোভাবেই সফল হতে পারছেন না। অটোরিকশা চালকদের আইন অমান্য করার নজিরবিহীন প্রবণতার কারণে দায়িত্বরতদের নিরলস চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।
প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করা সাধারণ যাত্রীরা জানান,”অটোরিকশাগুলোর বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিদিন ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রতিনিয়ত পথচারী ও যাত্রীরা আহত হচ্ছেন। অটো চালকদের এই দাপটে আমরা বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি।”
এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”প্রশাসনিক ব্যবস্থা যতক্ষণ না কঠোর ও জোরালো হবে,তততক্ষণ এদের কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।এছাড়া চালকদের নেই কোনো বৈধ প্রশিক্ষণ বা ড্রাইভিং লাইসেন্স,অথচ মোড়ে মোড়ে তাদের রাজত্ব। প্রতিদিনের এই চরম ভোগান্তির শেষ কোথায়?”
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে আক্রান চৌরাস্তায় অটোরিকশার অবৈধ পার্কিং বন্ধ, রিকশার সুনির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং ট্রাফিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর মোবাইল কোর্ট বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।














