মানিকগঞ্জের শিবালয়ে যমুনা নদীর আলোকদিয়া চর এলাকায় উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনের কবলে পড়ছে আশপাশের জনবসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, শাহআলম নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে গঠিত একটি চক্র সশস্ত্র পাহারায় ড্রেজার বসিয়ে এই বালু উত্তোলনের কার্যক্রম চালাচ্ছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ৩টা থেকে আলোকদিয়া চরে নদীর ৭ ও ৮ নম্বর বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের অতি নিকট থেকে ১০টি ড্রেজার দিয়ে একযোগে বালু তোলা শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এক মাসের মধ্যে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের স্পষ্ট নির্দেশ থাকলেও তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে প্রভাবশালীদের ক্ষমতার দাপটে আদালতের আদেশ অমান্য করেই চলছে বালু মহাল পরিচালনার নামে পরিবেশ ও জাতীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর অতল তলদেশ থেকে এভাবে নির্বিচারে বালু তোলার ফলে এলাকাটিতে ভয়াবহ নদীভাঙনের তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দ্রুত এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন টাওয়ার, যা পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তারা অবিলম্বে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
উক্ত বিষয়টি নিয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা রানী কর্মকার জানান, “যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে মা ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখবে।

















