হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মানিকগঞ্জের শিবালয়ে যমুনা নদীর আলোকাদিয়া চর এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে অন্তত ১১টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে। এতে নদীভাঙনের পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি বালু উত্তোলনকারী চক্র স্থানীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী শাহআলম বাহিনীর পাহারায় দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় পরিবেশবিধ্বংসী এ তৎপরতা চললেও কার্যকর প্রতিরোধ নেই। এমনকি সংশ্লিষ্ট এলাকায় নৌপুলিশের টহলও চোখে পড়েনি বলে দাবি তাঁদের।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন তীব্র হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ এবং দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু আদালতের নির্দেশনার পরও ১১টি ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান বলেন, তথ্যসূত্রে তিনি বালু উত্তোলনের বিষয়টি জেনেছেন। কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কীভাবে প্রকাশ্যে ১১টি ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে? প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ কি কেবল বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ?


















