মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মহামান্য হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। যমুনা নদীর আলোকাদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের ভয়াবহ নিকটবর্তী স্থান থেকে দিন-রাত লাখ লাখ ঘনফুট বালু তুলে নিচ্ছে প্রভাবশালী চক্র। এর ফলে পুরো বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ধসে পড়ার চরম আশঙ্কার পাশাপাশি তীব্র নদীভাঙন ও মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
বুধবার( ৪ নভেম্বর ২০২৬)ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, আলোকাদিয়া চর এলাকায় অন্তত ১১টি শক্তিশালী ড্রেজার রাত-দিন এক করে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, এলাকার চিহ্নিত এক প্রভাবশালী বালুখেকো চক্র ও তাদের ক্যাডার বাহিনীর প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় এই পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বালু উত্তোলন করা হলেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এমনকি নৌপুলিশের প্রয়োজনীয় টহল না থাকায় চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
বেপরোয়া ও অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের শত শত বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নদীভাঙন রোধ ও স্পর্শকাতর জাতীয় সম্পত্তি সুরক্ষায় এলাকাবাসী উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করে মহামান্য হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনতিবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধের কঠোর নির্দেশ দেন এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ প্রদান করেন। তবে আদালতের স্পষ্ট আদেশ সত্ত্বেও ড্রেজারগুলোর কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
যোগাযোগ করা হলে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পর কারা এর নেপথ্যে কাজ করছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অসারতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, খাতা-কলমে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে প্রকাশ্যেই চলেনি বিশাল এই বেআইনি কার্যক্রম। ক্ষয়ক্ষতি আরও অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই আদালতের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন, সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র গ্রেপ্তার এবং ড্রেজার উচ্ছেদে জরুরি ভিত্তিতে টাস্কফোর্সের অভিযান চালানোর আকুল আকুতি জানিয়েছেন সর্বস্তরের জনগণ।


















