সারাদেশের ন্যায় সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলের এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারে চলছে চরম নৈরাজ্য। অসাধু ব্যবসায়ী ও কিছু ডিলারের কারসাজিতে বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত ১২ কেজি ওজনের এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা। এ পরিস্থিতিতে বাজারে নিয়মিত তদারকি ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
মঙ্গলবার ও বুধবার (দুই দিন) সরেজমিনে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজারে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করেই চলছে গ্যাসের কারবার। বাসাবাড়িতে ব্যাপক ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্য ২,০৬০ টাকা হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ২,১০০ থেকে ২,৪০০ টাকা পর্যন্ত। ক্ষেত্রভেদে প্রতিটি সিলিন্ডারে ৪০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৪০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ক্রেতাদের অভিযোগ, সাভার-আশুলিয়ার বাজারে কাঁচামাল ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে গ্যাসের এই বাড়তি দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা গুদামে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। কয়েকজন ক্রেতা জানান, নির্ধারিত দামে গ্যাস চাইলে ব্যবসায়ীরা গ্যাস নেই বলে ঘুরিয়ে দেন, অথচ বাড়তি টাকা দিতে রাজী হলেই মিলছে সিলিন্ডার।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভোক্তারা বলছেন, বাজারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঠিক তদারকি না থাকার কারণেই কিছু অসাধু ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছেন। বাজারে সরকারিভাবে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের গুদাম এবং বিক্রিয়কেন্দ্রে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।
এলপিজি গ্যাসের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ভোক্তারা আশা প্রকাশ করছেন, জনভোগান্তি নিরসনে দ্রুত জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন বাজারে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।


















