সর্বশেষ

যমুনা নদীতে সশস্ত্র বাহিনীর ছত্রছায়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার সংলগ্ন নদী তলদেশ থেকে ফের অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি,এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আত্মসমর্পণকারী সশস্ত্র চরমপন্থী গ্রুপের সদস্যদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় আব্দুর রশিদ ও আব্দুল করিমের নেতৃত্বে আত্মসমর্পণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান হিসেবে পরিচিত বাপ্পি এবং তার সহযোগী রকিসহ কয়েকজন মিলে নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কয়েকজন যুবক অবস্থান করছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের পাহারায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।

চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুর মধ্যে আবারও বাড়ছে হাম, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকট

এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের বহনকারী ট্রলারের মাঝি নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, অভিযুক্তদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। বিষয়টি টের পেলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলোকদিয়া চর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান,যমুনা নদীপথে বাপ্পি ও রকির বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের নাম। তাদের অভিযোগ, চরাঞ্চলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি এবং প্রতিপক্ষকে দমনে সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করে আসছেন। নদীপথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ বালুমহল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মিরাজ হত্যা মামলার পরও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। বরং গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল এবং সর্বশেষ ১০ মে এলাকায় সশস্ত্র মহড়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। জেলা পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ জেলা শ্রমিক দলের উদ্যোগে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

তিনি আরও বলেন, “কাউকেই যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদী তীরবর্তী কয়েক হাজার বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ঝুঁকিতে পড়লে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
১৪ মে ২০২৬
Trulli

যমুনা নদীতে সশস্ত্র বাহিনীর ছত্রছায়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ