সর্বশেষ

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি সহ দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ

এম জাফরান হারুন

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা বেগমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষকদের ডেপুটেশন বাণিজ্য, বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা দিতে অর্থ গ্রহণ, নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিতি এবং শিক্ষক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও একাধিক সূত্র।

অভিযোগ রয়েছে, মাসের অধিকাংশ সময় অফিসে উপস্থিত না থাকলেও একদিনে কয়েক দিনের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষকদের ডেপুটেশন, পিআরএল, এলপিআর, মাতৃত্বকালীন ছুটি, ঋণ আবেদন, টিএ বিল ও পেনশন সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী ও সুবিধাভোগী শিক্ষকদের ডেপুটেশনে অন্যত্র সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে অনেক বিদ্যালয়ে মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

ময়মনসিংহে আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ পালিত

গোলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বাদল বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে ১০২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু একজন শিক্ষিকাকে ডেপুটেশনে অন্যত্র পাঠানোয় মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে।”

দক্ষিণ-পূর্ব ছোট বালিয়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়ে ১২৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অনুমোদিত ছয়টি পদের বিপরীতে চারজন শিক্ষক কর্মরত। এর মধ্যেও ডেপুটেশনের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।”

এদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসের অনুমতি ছাড়াই কয়েকজন শিক্ষক বিদেশে অবস্থান করছেন এবং রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও উঠেছে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির একাংশের সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেন, “শিক্ষকদের কাছ থেকে অফিস সংক্রান্ত নানা অভিযোগ শুনছি। তবে বর্তমানে অফিসের সঙ্গে আমার সরাসরি যোগাযোগ কম থাকায় সব তথ্য জানা নেই।”

পাবনায় পদ্মা নদীতে দিন-রাত অবৈধ বালু উত্তোলন, অভিযানে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা বেগম বলেন, “আমার অফিস কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেয়নি। ডেপুটেশনের বেশিরভাগ আদেশ আগের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সময় হয়েছে। আমার সময়ে দু-একটি হয়েছে, সেগুলোও বিভিন্ন সুপারিশের ভিত্তিতে।”

জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ করিম বলেন, “অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমি আগে অবগত ছিলাম না। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে যাবো। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে শিক্ষক সংকট, ডেপুটেশন বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
২৮ জুন ২০২৬
Trulli

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি সহ দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ