প্রধানমন্ত্রীর জোর হস্তক্ষেপ কামনায় সিরাজগঞ্জ,টাঙ্গাইল মানিকগঞ্জ,পাবনা বাল্কহেড-নৌযান মালিক-শ্রমিকের ব্যানারে যমুনা নদীর ত্রাস”সালাম”বাহিনী’র চাঁদাবাজি অপহরণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ শনিবার (১৫ আগস্ট ২৬ইং) সিরাজগঞ্জে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সিরাজগঞ্জ টাঙ্গাইল,মানিকগঞ্জ,পাবনার কাজিরহাট,যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলবেষ্টিত বেলকুচি,টাঙ্গাইল সদর,চৌহালী উপজেলার চরবেল,পুলিংই,কাকুয়া,জাঙ্গালিয়া, কলাবাগান এবং মহেষপুরের বাল্কহেড-নৌযান মালিক -শ্রমিক কর্মচারীবৃন্দ এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। এ মানববন্ধনে বক্তারা সরাসরি”প্রধানমন্ত্রীর জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য যমুনা নদীর ত্রাস”সালাম”বাহিনী’র চাঁদাবাজি অপহরণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,নদীতে বেপরোয়া চাঁদাবাজি,অপহরণ,মারধর ও সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ করতে হবে। ঢাকা–সিরাজগঞ্জ নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে হবে। যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলবেষ্টিত নৌপথে সকল প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করে নৌযান চলাচল নিরাপদ করতে হবে।
বর্তমান সরকার প্রধানের কাছে,নৌযান মালিক শ্রমিকদের দাবি-নদীতে চলাচলকারী নৌযানে বেপরোয়া চাঁদাবাজি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অপহরণ,মারধর ও সন্ত্রাসী হামলা চিরতরে বন্ধ করতে হবে এবং হামলা কারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে।এবং অভিযুক্ত সকল ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। যমুনার নৌপথে সশস্ত্র সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। নৌযান শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আরোও বলেন,অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি,সালাম বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রুজবেল,রাজু,বাপ্পি,কাউসার আলম,মাসুদ হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নৌপথে চাঁদাবাজি সন্ত্রাস অপহরণ মারধর সহ সকল প্রকার অপরাধ কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে।এবং যমুনার নৌপথ নিরাপদ নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা বলেন,যমুনার বুকে নৌযান চলাচল যেন এখন আতঙ্কের আরেক নাম। ঢাকা-সিরাজগঞ্জ নৌরুটে চলাচলকারী বাল্কহেড ও অন্যান্য নৌযানে অস্ত্রের মুখে চাঁদাবাজি,হামলা,জিম্মি এবং ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ,এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন আঃ সালাম। স্থানীয়দের কাছে কথিত চক্রটি ‘সালাম বাহিনী’নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে,বেলকুচি,চৌহালি,টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা-সংলগ্ন বিস্তীর্ণ নৌপথে দীর্ঘদিন ধরে সালাম ও তার সহযোগীদের তৎপরতায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চল এবং এ নৌপথ ব্যবহার করে বিভিন্ন নৌযান থামিয়ে চাঁদাবাজি এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাল্কহেড থামিয়ে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছে।নিয়মিত চাঁদা না দিলে রড দিয়ে হামলার অভিযোগ রয়েছে কথিত সালাম বাহিনীর বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া-কলাবাগান এলাকায় ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী একটি বালুবাহী বাল্কহেডে হামলার অভিযোগও রয়েছে সশস্ত্র সালাম বাহিনীর বিরুদ্ধে। মানববন্ধনে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা ভুক্তভোগীদের ভাষ্য,আঃ সালামের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি নৌযানটি থামিয়ে অস্ত্রের মুখে শুকানি রুহুল আমিন ও রানা এবং নৌযানে থাকা শ্রমিকদের জিম্মি করে। এ সময় তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথিত সন্ত্রাসীরা আচমকা লোহার রড দিয়ে রুহুল আমিন ও রানাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাদের সাথে থাকা টাকা-পয়সাও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন,হামলায় আহত রুহুল আমিন ও রানা।
যমুনার বিস্তীর্ণ এলাকায় আতঙ্ক কাকুয়া, কলাবাগান,চর পুংলি,পানা কুড়া,গোয়ালা হোসেন, আরা গোয়ালা,দিপু গোয়ালা, কান্দাপাড়া,বেলকুচির মেহেরনগর চর, বেলখিদ্রচাপড়ি,রান্ধানপুর,বারবালা,সেটেল ও চরমহেশপুরসহ ঢাকা-সিরাজগঞ্জ নৌরুটে চলাচলকারী নৌযানের মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ,বর্তমানে যমুনার এসব নৌপথে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।তাদের ভাষ্য,কখন কোন নৌযানকে অস্ত্রের মুখে থামানো হবে, কখন চাঁদা দাবি করা হবে কিংবা কাউকে জিম্মি করা হবে—তা নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়।মানববন্ধনে একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, “যমুনায় সালামের নাম এখন আতঙ্কের নাম।”তাদের প্রশ্ন—এত অভিযোগের পরও কথিত এই বাহিনী কীভাবে সক্রিয় থাকে?‘আমি ভয়ংকর জলদস্যু ছিলাম’—সালামের নিজের মুখেই অতীতের কথা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রী তারক রহমানের কাছে এ সমস্ত চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী অপহরণকারী সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মুক্তি পণ দাবি করা ও যমুনা নদীতে আতঙ্ক সালাম বাহিনীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নৌযান- মালিক শ্রমিক কঠোর আন্দোলন ও ধর্মঘটের ডাক দিবেন বলে জানান।
















