রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনের হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের গলি ও সংলগ্ন ফুটপাতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করেনজিরবিহীন সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
অভিযানকালে বুলডোজারের (ভেকু) অসাবধানতামূলক আঘাতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পাশের একটি মসজিদে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও হকাররা একজোট হয়ে সিটি করপোরেশনের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সড়কে থাকা একটি কভার্ডভ্যান ও সিএনজিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,দুপুরে মিরপুর-১০ হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনের গলি ও ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নামেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও পুলিশ। উচ্ছেদ কাজ চলাকালে ভেকুর বাকেটের আঘাতে মাথার ওপর থাকা বিদ্যুতের প্রধান সংযোগ লাইন ও তার ছিঁড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছেঁড়া তার থেকে পাশেই অবস্থিত একটি মসজিদে আগুন ধরে যায়।
মসজিদে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার সাধারণ বাসিন্দা, মুসল্লি ও ক্ষুব্ধ হকাররা রাজপথে নেমে আসেন। তারা উচ্ছেদকারী দলের ওপর চড়াও হন এবং উচ্ছেদ অভিযানে থাকা সিটি করপোরেশনের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।”ভেকু দিয়ে ফুটপাত ভাঙার সময় হুট করেই তার ছিঁড়ে মসজিদের চালের ওপর পড়ে স্পার্ক হয়। চোখের সামনে মসজিদে আগুন ধরে যেতে দেখে আমরা স্থির থাকতে পারিনি। প্রশাসনের এমন দায়িত্বে অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না।”স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান,উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনকারীরা মিরপুর-১০ নম্বর সংলগ্ন মূল সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে থাকা একটি পণ্যবাহী কভার্ডভ্যান ও একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় আগুন ধরিয়ে দেয়। ধোঁয়া ও আগুনে পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং আশপাশের দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।
হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের মুখে সিটি করপোরেশনের দল ও উচ্ছেদকর্মীরা পিছু হটতে বাধ্য হন। ঘটনার পরপরই মিরপুর-১০ ও আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মসজিদের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য এসে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।














